কাজের সুবাদে প্রায়শই আখাউড়া আসি, যেহেতু আমার অফিস থেকে মাত্র ৫ কিমি কেল্লা বাবার দরবার তাই ভাবলাম ঘুরেই আসি।
উপকথাঃ ইয়েমেন থেকে যে ৩৬০ জন অলি আউলিয়া নিয়ে হযরত শাহজালাল (রঃ) বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারে আসেন হযরত আহমদ গেদু দারাজ (রঃ) তার মধ্যে অন্যতম। তৎকালীন রাজা গৌর গোবিন্দ এর সাথে হযরত শাহজালাল (রঃ) এর যুদ্ধের কথা সবার জানা। সেই ধর্ম যুদ্ধে মুসলমানদের বিজয় হচ্ছিল না কারণ গৌর গোবিন্দ তন্ত্র সাধক ছিলেন এবং সাধনা বলে জীয়ন কূপ এর অধিকারী হন। সেই জীয়ন কূপে মৃত লাশ ফেললে জীবিত হয়ে যেত। আগেরদিন যুদ্ধে মুসলমানরা যত সৈনিক হত্যা করত জীয়ন কূপের বদৌলতে পরেরদিন যুদ্ধের ময়দানে সেই সম সংখ্যা হিন্দু যোদ্ধা হাজির। বিচলিত হযরত শাহজালাল রঃ মহান প্রভুর দরবারে সাহায্য চাইলে স্বপ্ন যোগে তিনি আদেশ পান আগে জীয়ন কূপের ক্ষমতা নষ্ট কর তারপর যুদ্ধ করলে বিজয়প্রাপ্তি হবে।
পরদিন সাথীদেরকে এই সংবাদ দিলেও কেউ এই কাজ করতে রাজি হচ্ছিল না।
জীয়ন কূপের কড়া পাহারার ব্যাবস্থা ভেদ করা গেলেও কূপের চারপাশে ৪০ জন উলঙ্গ নারী ছিল। যেহেতু ইসলামে অশ্লীলতার কাছে যাওয়া নিষিদ্ধ তাই একাজের জন্য লোক পাওয়া যাচ্ছিল না।
এদিকে হযরত শাহজালাল রঃ এর মলিন মুখ আরও মলিনতর। তখনই এগিয়ে আসেন হযরত আহমদ গেদু দারাজ শাহ রঃ। ইসলাম এবং তার প্রিয় মুর্শিদ এর স্বার্থে খোলা তরবারি ও নৌকা নিয়ে তিতাস নদী দিয়ে জীয়ন কূপের কাছে পৌছান। সেখানে স্বীয় ক্ল্লা আলাদা করেন যা তিতাস নদীতে পড়ে আর দেহ মোবারক নিয়ে তীরে চলে আসেন গেছু শাহ। তিতাসের তীর ঘেঁষে কূপের কাছে আসেন এদিকে মাথা ছাড়া দেহ তরবারি সহ হেটে আসছে দেখেই সবাই পলায়ন করে।
গেছু শাহ জীয়ন কূপে গরুর মাংস ফেলে তার ক্ষমতা নষ্ট করেন।
সেখানেই তার দেহ ওফাত বরণ করে পরবর্তী সময়ে তার প্রিয় শিষ্য র দেহ মোবারক কে সিলেট নিয়ে দাফন করেন শাহজালাল রঃ।
এদিকে তিতাস নদীতে জেলেরা মাছ ধরার সময় নদীতে ভূমিকম্প, ঝড় শুরু হয়। মাছ ধরার জাল পানি থেকে উঠানো যাচ্ছিল না এক হিন্দু জেলে পানিতে ডুব দিয়ে দেখতে পান জিন্দা কল্লা আল্লাহ এর জিকির করছে। এমন অলৌকিক জিনিস দেখে তিনি মুসলিম হন ও গেছু শাহ এর মুরিদ হয়ে ইসলাম প্রচারে আসেন।
কেল্লা শাহ নিজে ভাসতে ভাসতে খড়রমপুর এসে রওজামুবারক অলৌকিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত করে।
হযরত শাহজালাল রঃ বলেন ঃ যে কেউ আমার রওজা জিয়ারতে আসে সে যেন আমার মুরিদ আহমদ গেছু দারাজ এর রওজামুবারক জিয়ারত করে না হয় জিয়ারত অসমাপ্ত থেকে যাবে।
বর্তমান অবস্থাঃ
বর্তমানে মাজার ঘিরে স্থায়ী অস্থায়ী অনেক দোকান হয়েছে , প্রতি দিন অনেক ভক্ত আশেকান আসে ব্যবসা বানিজ্য ভালই হয়।
মাজার কমপ্লেক্স এ ৭০০ বছর পুরানো মসজিদ তো আছেই বর্তমানে বড় মসজিদ, ফাজিল মাদ্রাসা, লিল্লাহ বডিং হয়েছে।
প্রতি বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক জলসায় সামা কাওয়ালী, আসর , আর্চনা ইত্যাদি হয়।
মাজার কমপ্লেক্স এ লেখা আছে এখানে সেজদা দেয়া নিষেধ এটা শিরক। তবুও অনেকে মাজার সামনে রেখে নামাজ আদায় করছে, টুকটাক সবজি ব্যবসা ও চলে।
অনেকদূর থেকে পূণ্য লাভের আশায় মাজারে আসলেও অনেকেরই সৌভাগ্য হয় নি মসজিদে জামাতে ফরজ আদায় করার।
যাতায়াত ঃ সিলেট গামী ট্রেনে আদমপুর স্টেশন, চট্টগ্রাম গামী ট্রেনে আখাউড়া বা ব্রাক্ষণবাড়ীয়া স্টেশন নেমে অটোতে করে খড়রমপুর আসা যায়। অথমা বাংলাদেশের যেকোন জেলা থেকে বাসে ব্রাক্ষণবাড়ীয়া বিশ্বরোড নেমে সিএনজি করে
অথবা বর্ষাকালে তিতাস নদী হয়ে রিজার্ভ বোটে আাসা যায়।
Comments
Post a Comment